শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সমন্বয়কের ডায়েরি থেকে

তসলিম ইসলাম অভি

আমাদের লড়াই মূলত দেশপ্রেমিক ভালো মানুষগুলোকে সামনে নিয়ে আসা 

ডিবি’র বিপ্লব কুমার এসে বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে বলে এই ...... তোদেরকে দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করতেছি। ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলো না .....। ভারত, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে টিকে থাকতে পারবি? কনস্টবলের কাঁধ থেকে রাইফেল নিয়ে কাঁধে পিটুনি দেয়। পরে বুকে ধরে। বলে যে তোদেরকে à§« মিনিটের মধ্যে মেরে ফেলবো। এবং আমাদের মেরে ফেলার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।  

সমন্বয়কের চোখে ফ্যাসিস্ট সরকার :

আসলে ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা খুব অহংকারি ছিল। সে এতোটা আত্মবিশ^াসী ছিল যে কখনো ভাবতেই পারেনি যে এভাবে তার পতন হবে। সে এতোটা কিলার ছিল যে ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি হত্যা করতে হয়, সেটাও করবে। কিন্তু সে ক্ষমতা ছাড়বে না। এই আন্দোলনের সময় একথাটা উপলব্ধি করতে ছিলাম। আমরা আন্দোলনে ছিলাম বলতে আমাদের যে এক দফা ঘোষণা অর্থাৎ আমি বলবো à§§à§« জুলাই ২০২৪ আমাদের ওপর যে হামলা হয়, আমি নিজে হামলার শিকার হই এবং আহত হই গুরুতরভাবে। আমি যখন চিকিৎসা নিতে যাই ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে, সেখানে আমি ঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছিল যে, আমাদের সমস্যা হচ্ছে আপনাদের জন্য। সেদিন হাসপাতাল থেকে বের হয়ে চলে আসতে হয়। এরপরদিন ১৬ জুলাই আমি একটা টকশোতে অংশ নিয়ে আরেকটা টকশোতে যখন অংশ নেই, সেটা অনলাইন টকশো’ ছিল। সেদিন আমার বাসায় হামলা করা হয়। হামলা করা হয় গুলি করা হয়। অবস্থাটা এমন ছিল যে আমার তখন মনে হয়েছিল যে আমি মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী। আচ্ছা যদি পৃথিবীর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীও হয়ে থাকি আমি, আমার কথা হলো— আমার ওপর আপনার রাগ থাকতে পারে। আপনি আমাকে গ্রেফতার করতে পারেন। কিন্তু আমার বাসায় অনেক নারী আছে শিশু আছে। আমার বাসায় খুব জঘন্যভাবে হামলা করা হয়েছে। গুলি করা হয়েছে। আমি লাইভ টকশোতে ছিলাম। আমি ঘোষণা দেই যে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা অনেক হামলার শিকার হয়েছি, অনেক মামলার শিকার হয়েছি। ঘটনা ১৬ জুলাইয়ের। তখন খবর পাই রংপুরে আবু সাঈদসহ আরও ৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও এই সরকার হত্যার ঘটনা গোপন রাখতো। দেখা যেতো কাউকে গুম করে ফেলতো —- তাকে যে হত্যা করা হয়েছে সেটাও আমরা জানতে পারতাম না। আবার আরেকটা টেকনিক ছিল এই সরকার স্বীকার করতো না। শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে আমরা যেটা বুঝি, ফ্যাসিস্ট সরকার যদি কাউকে হত্যা করতো তার ফ্যামিলিসহ মেরে ফেলতো; যাতে সে যে গুম হয়েছে তা যেন কেউ না বলতে পারে। 

আমরা যেটা জানতে পেরেছি, (১০ জানুয়ারি ২০২৫ ইং শুক্রবার) ঢাকা মেডিকেলে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া গেছে। আমরা ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে à§©/টা জিনিস স্পষ্টভাবে বলেছিলাম। তার মধ্যে জিনিসপত্রের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা, মানুষের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ কাজ করা, এর পাশাপাশি যারা শহিদ এবং আহত হয়েছে। সেইসাথে যারা এখন পর্যন্ত নিরুদ্দেশ আছে, সেই বিষয়ে যেন পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ কাজ করে। কিন্তু সেটা হয় নাই। মিসিং ইনফরমেশনগুলো কিন্তু ঠিকভাবে নেওয়া হয়নি। যার ফলে পরিকল্পিতভাবে বেওয়ারিশ লাশের হিসেবগুলো এখন পর্যন্ত পুরোপুরিভাবে শেষ করতে পারিনি। এখানে আমাদের কিছু অবহেলা থাকতে পারে, কিন্তু প্রশাসন এখানে অবহেলা করছে। তাদের অসহযোগিতাটা বিশেষভাবে লক্ষ্য করি। তারা সেভাবে সহযোগিতা করছে না। প্রশাসন যখন মিসিং, কারা কারা সেই তালিকাটা যখন প্রকাশ করবে; তখন আমাদের পক্ষে বেওয়ারিশ লাশগুলো শনাক্ত করা সহজ হবে। সেকাজটি প্রশাসন আজও করেনি। এটাতো গেল ১৬ জুলাইয়ের ঘটনা। 

যেটা বলছিলাম ১৬ জুলাই লাইভে, যে অনেক হয়েছে। অনেকবার আমরা জেলে গিয়েছি। অনেকবার নির্যাতনের শিকার হয়েছি। অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। অনেকবার রিমান্ডে গেছি। এইবার জীবন থাকবে নয়তো লাইফ থাকবে না। বাট আমরা এইবার সরকারের পতন ঘটিয়েই ছাড়বো। হয় এইবার, নয়তো কোনবারই না। ১৬ই জুলাই একথা আমরা ফার্স্ট বলি। পরবর্তীতে দেখলাম সারাদেশে একটা আন্দোলন সংগ্রাম তৈরি হয়েই গেল। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যেভাবে প্রকাশ্যে হত্যা করা হলো— এখানে একটা কথা বলি, হাসিনা সরকার অভিনয়ে পাকা ছিল। যেমন ইলিয়াস আলীকে গুম করে তার স্ত্রীকে ধরে হাসিনা কান্নাকাটি করলো এবং বললো যে, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধার করে দিবে। হেল্প করবে সব করবে। কিন্তু আমরা পরে জানতে পারলাম যে, ইলিয়াস আলীকে সে নিজেই গুম করেছে। হাসিনা আমাদের ওপর হামলা করে নিজের স্বজন হারানোর অভিনয়টা সামনে আনতো। আমি বলবো সেতো তার নিজের পরিবারের সাথেও মীরজাফরি করেছে। তার বাপকে তলানিতে নিয়ে এসেছে। শেখ মুজিব স্বাধীনতার পরের ইতিহাস নিয়ে অনেক বিরূপ ধারণা থাকলেও স্বাধীনতার পূর্বে তার ভূমিকা নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে একটা পজেটিভ ধারণাই ছিল। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরে এই শেখ মুজিবকে ব্যবহার করে ৭১কে ইউজ করে যে অভিনয়, ষড়যন্ত্র যেভাবে করেছে, এতে এই তরুণ-প্রজন্ম ব্যাপকভাবে ঘৃণার পাত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে শেখ হাসিনাকে। বর্তমানে শেখ হাসিনার স্বজন হারানোর বেদনার অভিনয়ের কারণে বিষয়টি নিয়ে ট্রল (নেতিবাচক সমালোচনা) শুরু হয়েছে। 

আন্দোলনে সাথে সম্পৃক্ততা : 

প্রত্যেকটা মানুষের একটা স্বপ্ন থাকে। আমারও ঠিক তেমনি স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই দেশের জন্য কাজ করার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ঢুকে দেশের জন্য কিছু করার। হাসিনা সরকারের বৈষম্যমূলক চাকরির নীতি থাকার কারণে অনেকেই সহজে চাকরি পেতো না। এজন্য ২০১৮ সালে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হই। এই আন্দোলন কিন্তু ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ছিল না। এগুলো ছিল সাধারণ মানুষের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে। আমরা আসলে এই প্রজন্ম কিন্তু আওয়ামী লীগকেই দেখে আসছি।  যেমন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আমরা যখন এই আন্দোলনে যুক্ত হলাম সেখানে কিন্তু আমরা জাতীয় স্বার্থটাই দেখেছি। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক কোন স্বার্থ দেখিনি। আমরা দেখলাম কী! আমরা যখন নিরাপদ সড়ক চাই এই দাবি করলাম; সেখানেও হামলা হলো। তখনই আমাদের সামনে একটা প্রশ্ন আসে, এই সরকার কাদের সরকার? এই সরকারতো মানবতার বিরুদ্ধে। নিরাপদ আন্দোলনের বিরুদ্ধে যখন এই সরকার অবস্থান নিল, মানে কোন আন্দোলনই সরকার সহ্য করছে না। যখনই কোন আন্দোলন শুরু হচ্ছে আমাদের জামায়াত শিবির ট্যাগ দিচ্ছে। জঙ্গি বলে ট্যাগ দিচ্ছে। এটার পর যতগুলো আন্দোলন হয়েছে বিশেষ করে মোদি বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। অনেককে গ্রেফতার করা হয়।

ব্যাপারটা এরকম না যে আমরা ২০২৪ সালেই আন্দোলন করতেই হামলা মামলার শিকার হয়েছি। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল ৬ বছর ধরে এই অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন, হামলা-মামলা, জেল জুলুম গুম এমন কিছু নাই যে তারা আমাদের সাথে করেনি। এরপর রাজপথ আমাদের ঠিকানায় পরিণত হয়। আমরা বাড়ি ঘরে থাকতে পারি না। বাসায় থাকতে পারি না। কোন জব করতে পারিনি। আমি কিন্তু একটা জব করতাম। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে ঐ অফিসে গিয়ে হানা দেয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী গুন্ডাবাহিনী, ছাত্রলীগ, যুবলীগ তারপর আরও অনেক লীগ ছিল। ঐ সময় বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দেখা যেত যে, একটা সুবিধাভোগী শ্রেণি থাকে। যেমন এই সরকারের মধ্যেও একটা সুবিধাভোগী শ্রেণি রয়েছে। আমাদের সমন্বয়কারীদের মধ্যেও এমন অনেকে আছে। তারা ওই সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে। এরাই আবার এই সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে। আমি বলতে চাই সব জায়গাতেই ভালোমন্দ আছে। 

কী চাই ? 

আমাদের লড়াই মূলত দেশপ্রেমিক ভালো মানুষগুলোকে সামনে নিয়ে আসা। তাহলেই মূলত একটা রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে। যেমন ধরেন মালয়েশিয়া কী করেছে। মাহাথির মোহাম্মদ। আমরা যেটা দেখেছি। তিনি বলেছেন আমাদের দেশে অসৎলোক মন্দলোক হাতে গোনা à§« থেকে ১০ ভাগ আছে!  বাকী ৯০ ভাগ লোক ভালো আছে। এই মন্দ লোকগুলো কিন্তু ঐক্যবদ্ধ আছে। আমার দায়িত্ব হলো ৯০ ভাগ ভালো লোককে ঐক্যবদ্ধ করা। তাহলে মন্দ লোকগুলো এমনিতেই সরে যাবে। এই ঐক্যবদ্ধকে বিনষ্ট করার জন্য, তাদের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করার জন্য, দেশদ্রোহী যারা আছে তারা চেষ্টা করছে। 

আপনি দেখেন একজন জুতাচোর যখন মসজিদে যায়, তখন তাকে দেখে মনে হবে সেও মুসল্লি। সেও নামায পড়তে যাচ্ছে। পরে আমরা জানতে পারি যে সে জুতা চুরি করতেছে। এখন রাজনীতিতে অভিনয় যুগ যুগ ধরে চলতেছে। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা বলা হয়। আমার দেশে সাম্প্রয়িক সম্প্রীতি যথেষ্ট আছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি পৃথিবীর যেকোন রাষ্ট্রের চেয়ে আমার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যথেষ্ট ভালো আছে। নাই হলো রাজনৈতিক সম্প্রীতি। আমার দেশে রাজনৈতিক সম্প্রীতি নাই। বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘ কথা বলে আসতেছি। আমি মনে করি রাজনৈতিক সম্প্রীতি যখন আমাদের মধ্যে চলে আসবে তখনই জনগণের সম্প্রীতি তৈরি হবে। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে আর কোন রাজনীতি চলবে না। জঙ্গি মঙ্গি নিয়ে এসব যে অভিনয়, দীর্ঘ ১৫টা বছর ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। আর এই প্রজন্মটা বড় হয়েছে কেবল অভিনয় আর ষড়যন্ত্র নামের কথাগুলো শুনে। আমার সম্পৃক্ততা মূলত ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে। সেই সময় থেকে ২৪ সালের বিপ্লব অভ্যুত্থান এবং এখন পর্যন্ত রাজপথ থেকে পিছু হটিনি। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে যেকোন জাতীয় স্বার্থে আমি রাজপথে ছিলাম, আমার সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে প্রতিবাদ করেছি, এখনো করছি, ভবিষ্যতেও করবো। 

৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা :

à§« আগস্ট ২০২৪ এর কথা বলতে হলে পূর্বের দিনগুলোতে ফিরে যেতে হবে। পূর্বের দিনগুলোতে à§« আগস্ট জড়িত। à§« জুন যখন আমরা আন্দোলন করি, রাতের বেলা। তারপর ৬ জুন ২০২৪ এ আমরা প্রোগ্রাম করলাম রাজু ভাস্কর্যে সকাল ১১টা বাজে। à§« জুন রাতেই প্রতিবাদ জানাই রাজপথে থেকে। ৬ জুন সকাল একটা হয়। আরেকটা হয় বিকাল বেলা। পরবর্তীতে সামনে ঈদ ছিল। ঈদকে সামনে রেখে সাময়িক প্রতিবাদ জানিয়ে কিছু আল্টিমেটাম দিয়ে রাখি। পরবর্তীতে ঈদের পর মূলত আন্দোলনটা শুরু হয় ধাপে ধাপে। এসব সময়ে বার বার হামলা শিকার হয়েছি। মামলার শিকার হয়েছি। আপনারা দেখছেন শুধু ঢাকার টা। আমাদের গ্রামেও ফ্যামিলির ওপর চাপ এসেছে। আত্মীয় স্বজনের ওপর থ্রেট হুমকি ধামকি ছিল। সবশেষ ১৪ জুলাই যখন আমরা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাই, এর পরের দিন। আমরা আশা করেছিলাম ঐদিনই এটা হয়ে যাবে। কিন্তু এই সরকার যে এতো বোকা, এই সরকার কিন্তু নিজের দোষেই নিজের পতন ঘটিয়েছে। পতন যখন ঘনিয়ে আসে মানুষের, জালিম যখন অতিরিক্ত জুলুম করে তখন বুঝতে হবে তার পতন ঘনিয়ে আসছে। আমরা আসলে এটা ফিল করতাম। 

১৬ জুলাই একটা টকশো’তে বলতে ছিলাম, জালিম যখন অতিরিক্ত জুলুম করে তখন বুঝতে হবে তার পতন ঘনিয়ে আসছে। এইবার তার পতন ঘটিয়েই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এটা ছিল আমাদের প্রকাশ্য ঘোষণা। তখনই আমাদের শিবির জঙ্গি হেন-তেন, তোমাকে একঘন্টার মধ্যে অ্যারেস্ট করবো। ফাইনালি দেখা গেল টকশো শেষ করার পর আমার বাসা ঘেরাও করা হলো। একই দিন আরেকটা ঘটনা ঘটেছিল। বিএনপির কার্যালয়েও হয়েছিল। জামায়াত বিএনপি এতদিনের দুটি রাজনৈতিক দল....। তাদের রাজনৈতিক কার্যালয়েও...  হয়। ঐ যে যেটা হয়, অভিনয় সেটা চলতেছিল। ঐ সময় যখন আমার বাসায় রেড দেওয়া হয়....। সেদিন আমি জান নিয়ে বাঁচি। পালিয়ে যাই। পালিয়ে যাই বলতে ...। বাইরে থেকে বিকট গুলির শব্দ হলো। এরপর বাসার নিচ থেকে কয়েকজন এলো। বলে যে ভাই...। পুরো বাসা ঘেরাও দিয়ে ফেলছে। তসলিম অভি নামের কে আছে... তাকে ধরার জন্য। পরে ওখানে যারা ছিল তারা বললো ...। ভাই আপনি এখনি....। ওই সময় আমাদের বিল্ডিং এর পাশে আরেকটা বিল্ডিং ছিল। এরা তখন জানালা খুলে দিল। তার নিচে দিয়ে একটা ফাঁকা জায়গা ছিল সেখানে বই দিয়ে রেখেছিল। ঐ ফাঁকা জায়গা দিয়ে আমি পালিয়ে যাই। একারণে সেদিন আমাকে ধরতে পারেনি। নয়তো সেদিন আমাকে ধরে ফেলে। ১৬ জুলাই। এরপর à§§à§­ জুলাই আবার আমরা রাজপথে নামি। সেখান থেকে আমার পায়ে গুলি করা হয়। আমি যে কাজটা করতাম.....। সারাদেশে অথাৎ দীর্ঘদিন রাজপথে আছি। সারাদেশে রাজপথের অনেক সহযোদ্ধা... আমাদের সাথে সম্পর্ক আছে। তাদেরকে দিয়েই কিন্তু আমাদের আন্দোলনটা শুরু করি সর্বপ্রথম বিভিন্ন জায়গায়। পরবর্তীতে আমরা দেখতে পেলাম যে, আবু সাঈদের হত্যার পর সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। à§§à§« জুলাই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে আমাদের ওপর যে হামলাটা হলো——। আমরা অনেকে হামলার শিকার হলাম। নারীদের ওপর ওরা আঘাত করলো। যেটা প্রত্যেকটা পুরুষের বিশেষ করে ছেলে যারা আছে, প্রত্যেকটা বিবেকবান মানুষের মধ্যে হৃদয়ে একটা নাড়া দিয়েছে যে, এইভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা যেভাবে হামলা করলো......। ওবায়দুল কাদের প্রকশ্যে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ছাত্রলীগই যথেষ্ট। একটা দলের সাধারণ সম্পাদক, সে দেশের রানিং মন্ত্রী। সে একটা দেশের রানিং মন্ত্রী থাকা অবস্থায় যেভাবে ঘোষণা দিয়েছিল, শেষ পর্যায়েও তারা তাই করেছিল। ছাত্রলীগকে তারা সন্ত্রাসী দলে পরিণত করেছিল। তারা এটা প্রমাণ করেছে যে, এদেশে রাষ্ট্রীয় ফোর্স বলতে কিছু নাই। ছাত্রলীগকে তারা রক্ষী বাহিনীর পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। ক্ষমতা যে তাদের হাত ছাড়া হতে পারে সেটা তাদের চিন্তা ভাবনায় ছিল না। এতটা অহঙ্কারি ছিল। 

তো সাধারণ মানুষ যখন ১৬ জুলাই আবু সাঈদের ঘটনা দেখে à§§à§­ জুলাই সারাদেশে প্রত্যেকটা গ্রামগঞ্জে কিন্তু আন্দোলনর সংগ্রাম শুরু হয়। তারপর আমরা দেখতে পাই ছাত্রলীগ যুবলীগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী যারা আওয়ামী লীগের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে ছিল তারা কিন্তু প্রকাশ্যে গণহত্যা শুরু করে। à§§à§­ জুলাই থেকে গণহত্যা শুরু হয়। ১৬ জুলাই আমরা প্রকাশ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারি যে, à§­ জন à§® জনের হত্যা। কিন্তু বাস্তবে আশঙ্কাটা আরও বেশি ছিল। আমরা ধারণা করতেই পারি, কারণ লাশ গুম করার যে একটা নজির সেটা শেখ হাসিনার অনেক রয়েছে। কেন আন্দোলন চালিয়ে গেলাম ? 

আমরাতো দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলাম। দীর্ঘদিন হামলা মামলা শিকার হচ্ছি। আমরা এটাও জানতাম যে, এই আন্দোলন ব্যর্থ হলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এজন্য আমাদের পণ ছিল হয় এবার আমরা হয় করবো নয়তো....। মূলত শহীদ হওয়ার প্রেরণা নিয়ে আমরা আন্দোলনটা চালিয়ে গেছি। ধরুন আমি যে এখানে বসে আছি আমি কিন্তু এখনো নিজেকে জীবন্ত মনে করি না। মনে করি জুলাইতে শহীদ হয়ে গেছি। 

আমি মূলত জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার কারণে সারাদেশে গ্রামে গঞ্জে স্কুল কলেজ ভার্সিটিগুলোকে সমন্বয় করেছি। তাদের মাধ্যমেই আমরা সারাদেশে নেতৃত্বটা শুরু করি। ওইরকম পরিস্থিতিতে গণহত্যার সময় নেতৃত্ব দেওয়াটা কঠিন ব্যাপার ছিল। আমরা কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। আমাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্রাকিং করতো। তারপর আবার গুলিবিদ্ধ অবস্থা। নিরাপত্তা সংকটতো ছিলই। গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেও রাজপথ ছাড়িনি। 

গ্রেফতার ও ডিবি : 

à§« আগস্ট ভোরবেলা আমাকে বকশিবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। আমাকে, ঢাকা কলেজের সমন্বয়ক নাজমুল হাসানকেসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তখন আমাকে এবং নাজমুল হাসানকে অনেক নির্যাতন করা হয়। স্পটেই আমাকে প্রচুর মারধর করা হয়। সেখানে আমাদের পরিচিত একজন ছিল। ওই সার্কেলের এসি (সহকারী পুলিশ সুপার) ইমরুল। এসি ইমরুল আগে থেকেই আমাকে চিনতো। সে বিভিন্নভাবে বলতে ছিল যে, তোমাদের ৬ সমন্বয়ককে তো এর আগে আনলাম অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে দিলাম। তারাতো অনেকদিন ছিল। অনেক কিছু করার চিন্তা ভাবনা করলাম। তারপরও তোমরা ফিরে গেলা না। তারপরও তাই করতেছো। আমি বললাম যে, আপনারতো ৬ সমন্বয়ককে গ্রেফতার করলেন। আপনারা সব সমন্বয়ককে গ্রেফতার করলেও কিছু হবে না। এটাতো জনগণের চাওয়া। এক দফাতো আমরা দেইনি। জনগণ দিয়েছে। আমি তখন এসি ইমরুলের মুখোমুখি। পিছন দিক থেকে আমাকে মারছে কনস্টেবল। আমি ইমরুলের মুখোমুখি। তখন শাহবাগ থানার ওসি এরশাদ ছিল। তারপর আরও কয়েকজন ছিল। তারা আরও বেশি ক্ষিপ্ত ছিল। তারা বলতে ছিল আমাদের গুলি করে মেরে ফেলবে। তারপর এসি ইমরুল যেটা করলো তা হলো আমাকে সাইড করে এনে বসালো। আমি বললাম আপনারা এইগুলো করতেছেন। আপনাদের মধ্যে কি দেশপ্রেম নাই। আপনারা মরবেন না। তখন এসি ইমরুল বললো— দেখো এখানে আমি কী করবো। আমাকে যা হুকুম করবে, তাই করবো। এখানে আমাদের স্যারেরা আছে। ইমরুলের সাথে কথা বলছি এর মধ্যেও আমাকে পিটাচ্ছে। এরমধ্যে এসি বললো এখন মনে হয় তোমাদের আর বাঁচাতে পারবো না। কারণ এখন আর আগের মতো সময় নাই। এখন হচ্ছে অস্তিত্বের লড়াই। পুলিশ বলতেছে অস্তিত্বের লড়াই। পুলিশতো রাষ্ট্রীয় ফোর্স। অস্তিত্ব বিলীন হলে হবে যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের। পুলিশের লোক সে কিভাবে বলতে পারে। পরবর্তী এসি ইমরুল নিজের গাড়িতে করে নিয়ে আসে। কারণ আমি ভীষণ অসুস্থ ছিলাম। সে নিজের গাড়িতে করে শাহবাগ থানায় নেয়। পরে বলে যে এদেরকে ডিবিতে দিতে হবে। উপর থেকে অর্ডার আছে। তারপর আমাকে ওখান থেকে নিয়ে যায়। কোন রাস্তা দিয়ে নিয়ে যায় তা খেয়াল নাই। সেখান থেকে নিয়ে আমাকে প্রচুর নির্যাতন করে।

বিপ্লব কুমার কহিলেন : 

বিপ্লব কুমার তখন ডিবির দায়িত্বে। বিপ্লব কুমার এসে বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে বলে এই ...... তোদেরকে দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করতেছি। ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলো না .....। ভারত, ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলে টিকে থাকতে পারবি ? সে কনস্টবলের কাঁধ থেকে রাইফেল নিয়ে আমার কাঁধে পিটুনি দেয়। পরে বুকে ধরে। বলে যে তোদেরকে à§« মিনিটের মধ্যে মেরে ফেলবো। এবং আমাকে মেরে ফেলার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমাদের নাজমুল হাসান ছিলো। আরও বেশ কয়েকজন ছিল। পরে আমাদেরকে নির্যাতন করতে করতে সিটিটিসিতে নিয়ে যাওয়া হয়। জানেনতো সিটিটিসি কতটা ভয়ঙ্কর। সেদিনতো ধরেই নিয়েছিলাম যে আমাদের মেরেই ফেলবে। অর্ডারও ছিল আমাদের মেরে ফেলতে। বাইরের খবর কিন্তু আমরা জানি না। হঠাৎ দেখলাম বিকাল তিনটার দিকে দেখি অন্যরকম আচরণ করছে এরা। মনে মনে ভাবলাম কাহিনী কী! আমরা কিন্তু বাইরের খবর জানি না। একজন এসে বলছে, ভাই আপনাদের মধ্যে আহত কে? কে? চিকিৎসা দেওয়া হবে। আরেকজন এসে বলতেছে আপনারাতো আমাদের মেহমান আজ আপনাদের খাওয়াবো। আমি কই একটু আগে বলছে গুলি করে মেরে ফেলবে এখন বলে মেহমান! কাহিনী কী? তারপর আস্তে আস্তে জানতে পারলাম। কিছুক্ষণ পর এরাই আমাদের এসে বললো ভাই আপনারা আমাদের বাঁচান। এরাই বলতেছে আপনাদের যারা মেরেছে, গুলি করতে চাইছিল, যারা হিন্দিতে কথা বলতেছিল এরা কিন্তু সবাই পালিয়ে গেছে। হারুন বিপ্লব কুমার এরা সবাই পালাইছে। জনগণ চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে। কয়েকজন কনস্টেবল বিশ^স্ত সূত্রে বললো। কিছুক্ষণ পর পর এডিসি মাহবুবকে দেখলাম। এডিসি মাহবুব এগিয়ে এসে বললো —- ভাই যারা অপরাধী তারা সবাই পালিয়ে গেছে। আমি অপরাধী নই বলেই এখানে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস আছে। এখন ভাই ডিবি কার্যালয় রাষ্ট্রীয় সম্পদ আপনাদের। আর আমাদের জীবন আপনারা বাঁচান। 

আমরা বললাম যদি আপনারা দেশপ্রেমিক হন? আপনাদের বাঁচাবো। 

এখানে যারা অপরাধী আছে তাদের ছাড় দিবো না। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বের হলাম। এর মধ্যে কয়েকজন কনস্টেবল ছিল তারাও বললো ভাই আপনাকে স্যারের কথায় পিটুনি দিয়েছিলাম, আমাদের মাফ করে দেন। কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। বের হয়ে দেখি ডিবি কার্যালয় জনগণ ঘিরে রাখছে। তখন তারা বলছে ডিবি এবং ডিএমপি কার্যালয় ঘিরে রাখছে। আপনারা দুইজন সমন্বয়ক। আপনারা দুইটা কার্যালয় বাঁচান। তখন আমরা মানুষকে বললাম যে, হারুন, বিপ্লব কুমার এরাতো সব পালিয়ে গেছে। এখন স্বাধীন বাংলাদেশ এই ডিবি কার্যালয় আমাদের সম্পদ। সাধারণ মানুষ প্রচুর ক্ষিপ্ত ছিল। বলে না এখানে আমার ছেলেকে এনে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার ভাইকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি ডিবি কার্যালয় রাখবো না। আমরা বললাম এর দায়ভার নিচ্ছি। সবকিছু করবো আমরা। ডিবি কার্যালয়ে যারা ছিল আমরা সেভ করলাম। জনগণ যেভাবে ক্ষিপ্ত ছিল যে তারা ডিবি কার্যালয়ের একটা ইটও রাখবে না। আমাদের কথায় ডিবি কার্যালয় রক্ষা পেল। এরপর দেখলাম ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ও ভাঙচুর করবে। সেখানে আমরা গিয়ে বললাম এখন আর ডিএমপি কার্যালয়ে স্বৈরাচারের দোসর আর কেউ থাকবে না। 

মিডিয়ার ভূমিকা : 

দেখেন আমরাতো ভাল করেই জানি। মিডিয়াতে হাসিনা সরকার দলীয়করণ করে রেখেছিল। মিডিয়ার স্বাধীনতা বলে কিছুই ছিল না। দুই একটা মিডিয়া চেষ্টা করেছে সত্য নিউজগুলো তুলে ধরার জন্য। বেশির ভাগ মিডিয়া কিন্তু  হলুদ সাংবাদিকতা করেছে। এখনও কিন্তু আমরা হলুদ সাংবাদিকতা দেখতে পাই। আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে জঘন্য সাংবাদিকতা হয় ভারতে। স্বার্থের জন্য সাংবাদিকতা করে। আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে কেমন সাংবাদিকতা চাই ? সাংবাদিক কারো পক্ষ হবে না, প্রতিপক্ষও হবে না। সাংবাদিক হবে নিরপেক্ষ। জনগণের একটা মাধ্যম। আমি জনগণের কাছে যে বার্তাটা পৌছে দেবো নিরপেক্ষ থেকে পৌছে দেবো। পক্ষপাতমূলক কোন কিছু করবো না। আমার ওপর কেউ হামলা করলে লিখে দিলাম সংঘর্ষ।  হামলা এক জিনিস সংঘর্ষ আরেক জিনিস। ছাত্রলীগ আমাদের ওপর হামলা করলো অথচ লিখে দিলো আমরা নাকি ছাত্রলীগের ওপর হামলা করেছি। পুলিশের বক্তব্য হুবহু ছেপে দেওয়া। বন্দুকযুদ্ধের নামে কত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এক তরফা। আমি যখন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনবো কিংবা আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আসবে, সেটাতো আমি উভয় দিকে যাবো। উভয়দিকের বক্তব্য তুলে ধরবো। এরপর আইন আদালত বিচার করবে কে সঠিক। কিন্তু আমরা এজিনিসটা দেখতাম না। আমরা দেখতাম হলুদ সাংবাদিকতা। আমরা দেখতার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে মিডিয়াগুলো দখল করে রেখেছে। এমনকি এখনও গণমাধ্যমগুলোতে হলুদ সাংবাদিকতা ব্যাপক। এই থেকে জাতিকে মুক্তি পেতে হলে হলুদ সাংবাদিকতাকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এবং যারা সাংবাদিকতা করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে; আমরা প্রত্যাশা করবো দুদক কিংবা অন্যান্য যারা আছে, এই সুবিধাবাদীরাই মূলত শেখ হাসিনার দোসর ছিল। à§« আগস্টের পর অনেক দোসর বসে আছে। দোসর কে আর নির্যাতিত কে এটা নিশ্চিত করার সবচেয়ে সুযোগ আমি যেটা মনে করি সেটা হলো ঐ ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার আমলে সুবিধাবঞ্চিত কারা ছিল আর সুবিধাবাদী কারা ছিল। (অনুলিখন: ইবরাহীম খলিল) 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ